আল্লামা সাঈদীসহ কারাবন্দী জামায়াত নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য ১৯ মে শুক্রবার মহান প্রভু আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে দোয়ার আহবান

আল্লামা সাঈদীসহ কারাবন্দী জামায়াত নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য ১৯ মে শুক্রবার মহান প্রভু আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে দোয়ার আহবান

জনগণ এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিবর্গ সকলেই সাক্ষী আল্লামা সাঈদী নির্দোষ
আল্লামা সাঈদীসহ কারাবন্দী জামায়াত নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য ১৯ মে শুক্রবার মহান প্রভু আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে দোয়ার আহবান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব মকবুল আহমাদ আজ ১৬ মে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে আল্লামা সাঈদীসহ কারাবন্দী জামায়াত নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য আগামী ১৯ মে শুক্রবার মসজিদে মসজিদে মহান প্রভু আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে দোয়া করার জন্য দেশের ও বিদেশে অবস্থানরত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষ নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে সাম্প্রতিক সময়সহ এ যাবতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করার তাওফিক প্রদান করার জন্য আমি মহান প্রভু আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করার জন্য দেশের ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এ যাবতকাল আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর যে সব নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ নিহত হয়েছেন তাদের শাহাদত কবুল করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করছি এবং তাদের শোক-সন্তপ্ত পরিবার পরিজন ও আহত, পঙ্গু এবং বিভিন্নভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের সকলের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মুক্তি পেয়ে আবার দেশের জনগণের মধ্যে ফিরে এসে যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, নৈতিক অবক্ষয় ও পাপ-পঙ্কিলতার অন্ধকার থেকে দেশের জনগণকে ফিরিয়ে আনার জন্য যাতে পবিত্র কুরআনের দাওয়াত দিয়ে ঈমানদার সৎ মানুষ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারেন মহান প্রভু আল্লাহর কাছে এ দোয়াই করছি।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কোটি কোটি মানুষের প্রাণ প্রিয় নেতা এবং কুরআনের দাওয়াতের ময়দানে এক জীবন্ত কিংবদন্তী। আল্লামা সাঈদী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে কারাগারে বন্দী আছেন তার সবচাইতে বড় সাক্ষী এদেশের জনগণ। কতিপয় মতলববাজ ও রাজনৈতিক ধান্ধাবাজ ব্যক্তি ছাড়া দেশের আপামর জনগণ এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিবর্গ সকলেই সাক্ষী আল্লামা সাঈদী নির্দোষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই সরকার তাকে অন্যায়ভাবে বন্দী করে রেখেছেন।

১৯৭১ সালে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিশাবালীর হত্যাকান্ডসহ যে সমস্ত ঘটনায় আল্লামা সাঈদীকে জড়ানো হয়েছে তার সাথে আল্লামা সাঈদীর কোন সম্পর্ক নেই। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে সেইগুলো যে ভিত্তিহীন মিথ্যা এবং তিনি যে নির্দোষ তার জ্বলন্ত সাক্ষী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জীবিত সদস্যগণ। আল্লামা সাঈদী এবং জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই সরকার আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এবং মতলববাজ ব্যক্তিদের দিয়ে সাক্ষী তৈরী করা হয়েছিল যা আদালতে আল্লামা সাঈদীর আইনজীবীগণ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। পবিত্র কুরআনের এই ধরনের একজন খাদেম ও নির্দোষ ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করায় গোটা জাতির সাথে আমরাও গভীরভাবে মর্মাহত। এমন একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড কেন, এক ঘণ্টার জন্যও শাস্তি প্রদান করা বিবেক, মানবাধিকার ও সত্যের পরিপন্থি।

আল্লামা সাঈদী যতক্ষণ পর্যন্ত মুক্তি না পাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তার মুক্তির আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার জামায়াতের কারাবন্দী নেতৃবৃন্দের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ূ ও মুক্তি কামনা করে আগামী ১৯ মে শুক্রবার দেশের মসজিদে মসজিদে মহান প্রভু আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে দোয়া করার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

Leave a response